![]() |
| Best Love story ভালোবাসার গল্প by Better Day |
বাড়ি ঢোকার সময় দেখি মা বাইরে যাচ্ছে।
- ও মা, কোথায় যাচ্ছ?
- পাশের গলিতে নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে। শুনলাম ওরা নাকি আমার খালার বাড়ির ওই দিকে থাকত। তাই যাই, দেখি আলাপ করে আসি।
- ওরে এখন কি দরকার যাবার..? আমি আসার সময় দেখলাম, ওরা ওদের জিনিসপত্র এখনো সব নামিয়ে পারে নি। থাক, পরে যেও।
-না রে, বিকাল বেলায় একটু ঘুরে আসি। ঘোরাও হবে, দেখাও হবে, পরে না হয় আলাপ করে নেব।
- তোমাকে তো বললে এমনিতেও শুনবে না। যাও
- হুম, থাক তুই। খেলে তড়াতাড়ি বাড়ি চলে আসিস। সন্ধ্যার আগে বাড়ি চলে আসিস।
- ওক্কে মা।
মা চলে গেল, আমি ঘরে এসে ফ্রেশ হয়ে খেলতে চলে গেলাম। আজ আবার ম্যাচ আছে একটা।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসার সময় আমরা আজকের ম্যাচের গল্প করছি। দেখি, সেই বাড়ির সামনে ট্রাক নেই। তার মানে, সব জিনিস পত্র নামানো শেষ। আমি বাড়ি ফিরে দেখি মা তখনো বাড়ি ফেরেনি। যাই হোক, আমি হাত পা ধুয়ে পড়তে বসলাম। মা ৮ টার দিকে বাড়িতে এল। এসে বলল,
- তুই যে বললি, ওরা কাজ করছে, কি না কি মনে করবে, যেতে মানা করলি, কিন্তু ওরা তো আমার সাথে বেশ ভালো ব্যাবহার করল। আরও আসতে দিতে চাইছিল না। সব গুছিয়ে তাই আমাকে না খেয়ে আসতেই দিল না।
- ওরে বাবা, তাহলে এতখন জ্বালিয়ে এলে ওদের...???
- হা হা হা
- ওয়েট ওয়েট, তুমি যে এত কিছু খেয়ে এলে তা আমার তা কই...???
- খাওয়া লাগবে না অত। শোন শোন, ওরা তোর মামার বাড়ির পাশের এলাকাতেই থাকত। বদলির জন্য এখানে চলে এসেছে। ৪ জন ওনারা। একটা বড় মেয়েও আছে। ভারি মিষ্টি। তোদের এক বছরের ছোট। তোদের কলেজেই ভর্তি হয়েছে। ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার। তুই ওকে কলেজে নিয়ে যাস তো কাল। ও তো নতুন। চেনে না কিছু।
- তা আমি যাব কেন...? ওদের বাড়িতে আরও লোক আছে তো।
-আরে বাবা, ওর বাবার অফিস আছে তো, কাল যেতে হবে, ওর ভাই ছোট। আর চেনে না, নতুন এলাকা। তাই আমি বললাম যে, তুই একই কলেজে পড়িস আর কাল ওকে নিয়ে যাবি। সকাল বেলায় ও আসবে আমাদের বাড়ি, তখন নিয়ে যাবি।
- আমি রাশেদ দের সাথে যাই তো মা।
- আরে তা যা, কিন্তু ওকে নিয়ে যা, ব্যাস মিটে গেল।
- ফাও ঝামেলা। আচ্ছা ঠিক আছে।
পরের দিন সকালে ৯ টার দিকে মেয়েটা এসেছে। আমি ঘরে ছিলাম। সে এসে মাকে ডাক দিল। তাই বুঝলাম যে সে এসেছে। কিন্তু তার গলাটা আসলেই অসাধারণ। গলা শুনেই মনে হল বাশির মত সুর। আমি দেখেনি মেয়েটাকে। কিন্তু, গলাটা আসলেই মায়াবী। আমি অধীর হয়ে উঠলাম তাকে দেখার জন্য। দরজার পাশে এসে পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকালাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য। সে উলটা দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে আছে আর মায়ের সাথে কথা বলছে। ধুর। আমি তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বেরিয়ে গেলাম। বললাম
- মা, আমি রেডি।
আমার গলা পেয়ে মেয়েটা এই দিকে ঘুরে তাকাল। মুখ ঘোরানোর সময় চুলগুলো দ্রুত উড়ে হাওয়াও ভেসে কতগুলো চুল মুখে আটকে বাকি সব চুল পিছনে সরে গেল। সরাসরি তার চোখে চোখ পড়ল। আমি যেন ভাষা হারিয়ে ফেললাম। তার চোখ আমাকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে রেখেছে। আমি আমার চোখ সরাতে পারলাম না তার চোখ থেকে। কি জানি কোন অদৃশ্য শক্তি আমাকে যেন আটকে রেখেছে তার চোখে। যেখান থেকে নিজেকে ফেরানো সম্ভব নয়। এ যেন দীর্ঘদিনের পরিচিত চেনা কোন চোখ। হারিয়ে গিয়েছিল। হারিয়ে ফেলেছিলাম। আজ অনেক দিন পর খুজে পেলাম। এই চোখ যেন আমাকে কোন এক দূর অতীতে নিয়ে গেল। কোন অতীত সেটা আমার জানা নেই, কিন্তু আমি আটকে সেছি সেই অতীতে, মনে পড়ছে, তবুও মনে করতে পারছি না। চেষ্টা করছি, তবু বাস্তবতার সাথে মেলাতে পারছি না। আমি যেন এই চোখ চিনি, খুব ভাল করে চিনি, কিন্তু কীভাবে চিনি জানি না। এখনো সেখানেই আটকে আছি, ফেরাতে পারছি না নিজেকে। কে এই মেয়ে। একে দেখে কেন এমন হল। আমি কি সত্যিই চিনি একে, নাকি পুরোটাই কল্পনা...? কই, আগে তো কখনো একে দেখি নি, কিন্তু তবুও এত চেনা যেন নিজের খুব কাছের মানুষ।
মায়ের ডাকে তার চোখ থেকে চোখ সরে গেল আমার। মা বলল,
-কি রে...? ওভাবে তাকিয়ে ছিলি কেন..?
আমি চমকে উঠে নিজেকে সামলে নিয়ে জড়িয়ে জড়িয়ে বললাম,
- ওই তো, ওই ওই রাস্তা দিয়ে কে যেন যাচ্ছিল, আরাফাতের মত লাগল, তাই, তাই দেখছিলাম।
মেয়েটা পিছন দিকে তাকিয়ে বলল,
- কই, কেউ নেই তো....!
আমি আবারো নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,
- মানে, মানে মনে হয় চলে গেছে। ঠিক চি চিনতে পারলাম না।
আসলেই, কোন সত্যকে ঢাকার জন্য মিথ্যা বলা শুরু করলে, সেই মিথ্যাকে সত্য বানানোর জন্য আরো অনেক গুলো মিথ্যা বলা লাগে।
যাই হোক, মাকে বললাম যে,
- আমার কাজ আছে আজ একটু, রাশেদরা এলে বলে দিও আমি চলে গেছি।
এই বলে বেরিয়ে গেলাম।
মেয়েটা বলল,
- মাসি, আসি তাহলে।
এই বলে আমার সাথে রওনা দিল।
রাস্তায় উঠলাম দুই জনে।


No comments:
Post a Comment